ইউপি নির্বাচনে নৌকার মনোনয়নপ্রত্র পাওয়ার তালিকায় নাম না পাঠানোর প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন 

কিশোরগঞ্জ
ইউপি নির্বাচনে নৌকার মনোনয়নপ্রত্র পাওয়ার তালিকায় নাম না পাঠানোর প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন
মোঃ আলী সোহেল, কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি :
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার তৃতীয় ধাপ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ১ নং গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী, প্রার্থীদের মনোনয়ন নামের তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত না করে কেন্দ্রে পাঠানোর প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে চেয়ারম্যান পদে নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী সৈয়দ শামসুদ্দোহা সাফি।
মঙ্গলবার (২৬ অক্টোবর) বিকাল সাড়ে ৩ টার দিকে উপজেলার গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গনে উপজেলা আওয়ামী লীগের কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক এবং ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শামসুদ্দোহা সাফি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।
মনোনয়ন প্রত্যাশী সৈয়দ শামসুদ্দোহা সাফি তার বক্তব্যে, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি জননেত্রী শেখ হাসিনা ও সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এর নিকট অভিযোগ করে বলেন, ১ নং গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ থেকে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার জন্য প্রায় দুই বছর যাবৎ স্থানীয় ও উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের নিকট প্রস্তাব রেখে মাঠে কাজ করে আসছেন তিনি। ১৪ অক্টোবর নির্বাচন কমিশন কর্তৃক তৃতীয় ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হওয়ার পর আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় ঢাকা থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করে নির্ধারিত সময়ের আগেই মনোনয়ন ফরম পূরণ করে জমা দিয়েছেন তিনি। এর পর তিনি বিশ্বস্ত সূত্রে জানতে পারেন রহস্যজনক কারণে আওয়ামী লীগের যাছাই বাছায় নামের তালিকায় তার নাম অন্তর্ভুক্ত না করে মোট চার জনের নামের তালিকা দলীয় কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। সেই তালিকায় তার নাম নেই। তার বক্তব্যে আরও বলেন, ছাত্র জীবনে গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। বর্তমানে তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সমবায় ও কৃষি বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন এবং সাবেক সদস্য ছিলেন।আওয়ামী লীগ নেতা সাফি দাবি করে বলেন তার পিতা মরহুম মোঃ আব্দুল কাদির ছিলেন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও কারাগারের সুবেদার এবং প্রয়াত রাষ্ট্রপতি আলহাজ্ব মোঃ জিল্লুর রহমানের একান্ত আস্থাভাজন ব্যাক্তি। পাকিস্তান আমল থেকে জাতীয় চার নেতা, বঙ্গবন্ধু ও আলহাজ্ব মোঃ জিল্লুর রহমান ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি থাকা অবস্থায় চাকুরি হারানোর ভয় উপেক্ষা করে জীবন মরণ বাজি রেখে অতি গোপনীয়তার সহিত দলীয় ও তাঁদের চিঠি পত্র এবং সংবাদ আনা নেওয়া করতেন।
আওয়ামী লীগের সভাপতি জননেত্রী শেখ হাসিনা ও সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এর নিকট প্রশ্ন রেখে শামসুদ্দোহা সাফি বলেন, বংশগত ভাবে আমি একজন আওয়ামী পরিবারের সদস্য ও নির্যাতিত নেতা এবং দেশের সূর্য সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধার সুযোগ্য সন্তান হয়েও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার তালিকায় আমার নাম অন্তর্ভুক্ত করে কেন পাঠানো হয়নি। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে যাকে এবার দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে সে গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মোঃ আবদুল আওয়াল হত্যা মামলার প্রধান আসামী। আমাকে মনোনয়ন না দিয়ে একজন নিজ দলীয় নেতা হত্যা মামলার মূল আসামীকে মনোনয়ন দেওয়ায় এলাকায় বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এতে করে দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে।
সৈয়দ শামসুদ্দোহা সাফি তার লিখিত বক্তব্যে এটাও বলেন, দলীয় মনোনয়ন যাছাই বাছাই নামের তালিকায় তার নাম অন্তর্ভুক্ত করে কেন্দ্রীয় দলীয় কার্যালয়ে পাঠানো হলে তিনি নির্শ্চিত দলীয় মনোনয়ন পেতেন এমন আশাবাদ ব্যাক্ত করেন গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নবাসী। তিনি এ বিষয়টি বিবেচনা করে দলীয় নেতা হত্যা মামলার প্রধান আসামীকে দেওয়া মনোনয়নপত্র বাতিল করে সৈয়দ শামসুদ্দোহা সাফিকে পূনরায় দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি জননেত্রী শেখ হাসিনা ও সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এর নিকট জোরালো দাবী জানান।
এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, মোঃ আব্দুস সাত্তার, মোঃ আসাদ মিয়া, মোঃ আরিফুল ইসলাম, মোঃ ফালু মিয়া ও মোঃ বেলায়েত হোসেন বিপ্লব এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।
শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.