কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি : কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলায় এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কোয়েল পাখির খামার, আসবাবপত্রসহ ১৭ বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
রোববার ( ২৯ নভেম্বর) দিবাগত  রাত ১১ টার সময় করিমগঞ্জ উপজেলার জয়কা ইউনিয়নের নানশ্রী কদমতলী দক্ষিণপাড়া গ্রামে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এই অগ্নিকাণ্ডে প্রায় এক কোটি টাকার ক্ষয় ক্ষতি হয়েছে বলে ক্ষতিগ্রস্তরা জানিয়েছেন।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার (২৯ নভেম্বর) দিবাগত রাত ১১টার দিকে নানশ্রীর কদমতলী দক্ষিণপাড়ায় সোহরাব মিয়ার বসতঘরে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহুর্তেই আগুন আশপাশের বাড়িঘরে ছড়িয়ে পড়ে।
অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে কিশোরগঞ্জের ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে আসে। তবে গ্রামের কাঁচা রাস্তা দিয়ে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি প্রবেশ করতে অনেক সময় লাগে যায়। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তিন ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয় ফায়ার সার্ভিস। ফায়ার সার্ভিস আসার আগেই পুড়ে যায়  ১৭ বসতঘরের ধান-চাল, আসবাবপত্র ও নগদ টাকা।
ক্ষতিগ্রস্থদের মধ্যে সোহরাব মিয়ার কোয়েল পাখির খামারসহ তার বসতঘর, মমিন মিয়ার প্রায় তিনশ’ মণ ধান, নগদ টাকা ও তিনটি ঘর এবং ইসলাম মিয়া, আরিফ, মিলন মিয়াসহ বেশ কয়েকজনের বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
কদমতলী দক্ষিণ পাড়ার বাসিন্দা মোঃ শরীফুল ইসলাম জানান, এই অগ্নিকাণ্ডে ৭-১০টি পরিবারের প্রায় ১৭টি বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে, এতে তাদের প্রায় ১ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
কিশোরগঞ্জের ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক মোঃ মোবারক আলী জানান, অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে তাদের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। এবং বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে, সোমবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন, করিমগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ নাসিরুল ইসলাম খান। উক্ত অগ্নিকাণ্ড ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে সরকারি সহায়তা দেয়ার আশ্বাস দেন তিনি।