খোকন হাওলাদার
বরিশালের গৌরনদী উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে দুই সদস্য প্রার্থীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় এক প্রার্থীর চাচা নিহত এবং কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। আজ সোমবার (২১ জুন) বেলা একটার দিকে ৯ নম্বর ওয়ার্ডে সদস্যপদের ভোট গ্রহণ নিয়ে এই পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এ সময় বেশ কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটে। ভোট গ্রহণ সাময়িক স্থগিত রাখার পর পুনরায় বেলা সোয়া দুইটায় তা শুরু হয়। ভোটকেন্দ্রে অতিরিক্ত পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী, স্থানীয় ভোটার ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে সদস্যপদে টিউবওয়েল প্রতীকের প্রার্থী মো. মন্টু হাওলাদার (৫৫) এবং মোরগ প্রতীকের প্রার্থী মো. ফিরোজ মৃধার (৪৮) কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। আজ ৫ নম্বর কমলাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট গ্রহণের সময় ৭ নম্বর পুরুষ বুথে মন্টু হাওলাদারের এজেন্টের দায়িত্ব পালন করছিলেন তাঁর ছেলে সাইফুল ইসলাম হাওলাদার (৩০)। বেলা পৌনে একটার দিকে ওই বুথে প্রার্থী ফিরোজ মৃধার এক সমর্থক জাল ভোট দিতে এসেছেন অভিযোগে সাইফুল তাঁকে চ্যালেঞ্জ করেন এবং তাঁকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে সোপর্দ করেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বেলা একটার দিকে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে। এ সময় কেন্দ্রের বাইরে সংঘর্ষে ২৫-৩০টি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটে। এ সময় সাধারণ ভোটাররা দিগ্‌বিদিক ছোটাছুটি করতে থাকে। প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ভোট গ্রহণ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেন।

সংঘর্ষে ইউপি সদস্য প্রার্থী ফিরোজ মৃধার চাচাতো ভাই মৌজে আলী মৃধা (৬৪) নিহত হন। দুপুর ১টায় সংঘর্ষের পর ভোট গ্রহণ সাময়িক স্থগিত রাখার পর পুনরায় বেলা সোয়া দুইটায় তা শুরু হয়। ভোটকেন্দ্রে অতিরিক্ত পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

এ সময় ফিরোজ মৃধার চাচাতো ভাই মৌজে আলী মৃধা (৬৪) নিহত হন। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী নিহত মৌজে আলীর মৃধার ভাতিজা মাসুদ রানা (৩৫) বলেন, ‘আমি ও চাচা মৌজে আলী কেন্দ্রের বাইরে রাস্তার ওপর দাঁড়িয়েছিলাম। হঠাৎ মন্টু হাওলাদার লোকজন নিয়ে বোমা হামলা চালান। এতে বোমার স্প্লিন্টারের আঘাতে চাচা মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। আহত অবস্থায় উদ্ধার করে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

তবে প্রার্থী মন্টু হাওলাদারের ছেলে এজেন্ট সাইফুল ইসলাম অভিযোগ করেন, ‘জাল ভোট দিতে এলে আমি বিষয়টি চ্যালেঞ্জ করার পর ফিরোজ মৃধার নেতৃত্বে ৪০-৫০ জন সন্ত্রাসী লাঠিসোঁটা, ধারালো অস্ত্র ও বোমা নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালান। এ সময় কেন্দ্রে আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য বৃষ্টির মতো বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এতে বোমা ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আমাদের পাঁচ কর্মী আহত হয়েছেন।’

ফিরোজ মৃধা পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার সমর্থকদের ওপর মন্টুর নেতৃত্বে সন্ত্রাসী ও তাঁদের সমর্থকেরা বোমা হামলা চালান। এ সময় আমার চাচাতো ভাই মৌজে আলী মৃধাসহ (৬৪) বোমায় ছয়জন আহত হন।

গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মনতোষ হালদার বলেন, ‘নিহতের বুকে, পিঠেসহ পুরো শরীরে বোমার স্প্লিন্টারের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। লাশ হাসপাতালে রয়েছে।

ভোটকেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার ও চন্দ্রহার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ‘ভোটকেন্দ্রে সংঘর্ষের কোনো ঘটনা ঘটেনি। কেন্দ্রের বাইরে সংঘর্ষের ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন বলে শুনেছি। সংঘর্ষের কারণে বেলা একটা থেকে সোয়া দুইটা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়। পরে অতিরিক্ত র‍্যাব, পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করে পুনরায় ভোট গ্রহণ শুরু হয়।

গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আফজাল হোসেন বলেন, পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। শান্তিপূর্ণভাবে পুনরায় ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। এ ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।