জামায়াতের সাবেক আমীর মকবুল আহমদ আর নেই!
নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর মকবুল আহমদ আর নেই। আজকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসাপাতালে তিনি ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না-লিল্লাহিওইন্নাইলাইহি রাজিউন।
দীর্ঘ দিন তিনি অসুস্থ ছিলেন। গত কয়েকদিন তিনি আইসিউতে ছিলেন।
সংক্ষিপ্ত জীবনী:
তিনি ফেনী জেলার দাগনভূঞা উপজেলার জয়লস্কর ইউনিয়নের সিলোনিয়া গ্রামে ১৯৩৯ সালের ২রা আগস্ট জন্মগ্রহণ করেন। পূর্বচন্দ্রপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তার প্রাথমিক শিক্ষা জীবন শুরু হয়। প্রাথমিক শিক্ষা শেষে দাগনভূঞার কামাল আতাতুর্ক হাইস্কুলে ভর্তি হন। এরপর ১৯৫৭ সালে কৃতিত্বের সাথে জায়লস্কর হাইস্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাশ করেন। তিনি ১৯৫৯ সালে বি.এ. পাস করেন।
মকবুল আহমদ বি.এ. পাস করার পর সরকারী চাকুরীতে যোগদান করেন। একবছর পর সরকারী চাকুরী ছেড়ে তিনি শিক্ষকতা পেশায় যোগদান করেন এবং ১৯৭০ সাল পর্যন্ত সরিষাদী উচ্চবিদ্যালয় ও ফেনী স্ট্রোল হাইস্কুলে শিক্ষক হিসেবে কাজ করেন। ১৯৭০ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত ফেনী মহকুমাধীন ‘দৈনিক সংগ্রাম’ পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
ছাত্রজীবন থেকেই মকবুল আহমদ রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। ছাত্রজীবন শেষ করে ১৯৬২ সালে তিনি জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেন এবং ১৯৬৬ সালে জামায়াতের রুকন (সদস্য) হন। ১৯৬৭ সাল থেকে ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত তিনি ফেনী শহর আমীরের দায়িত্ব পালন করেন এবং ১৯৬৮ সাল থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত মহকুমা আমীরের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭০ সালের শেষ দিকে তিনি বৃহত্তর নোয়াখালী জিলা আমীরের দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৭০ সালের প্রাদেশিক পরিষদে নির্বাচনে ফেনী সদর ও সোনাগাজী নির্বাচনী এলাকায় জামায়াত মনোনীত প্রার্থী হিসাবে এবং ১৯৮৬ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী ২ এলাকা থেকে অংশ নেন। মকবুল আহমদ ১৯৭৯ সাল থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত জামায়াতের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।
১৯৮৯ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত তিনি জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন এবং ২০০৩ থেকে তিনি জামায়াতের নায়েবে আমীর হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১০ সালের জুনে দলের তৎকালীন আমির মতিউর রহমান নিজামী গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে মকবুল আহমাদ ভারপ্রাপ্ত আমিরের দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৬ সালের ১৭ অক্টোবর তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর তৃতীয় আমীর হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।
২০১৯ সালে তিনি আমিরের পদ থেকে সেচ্ছায় বিদায় নেন।