মাসুদ সরকার, ধামইরহাট (নওগাঁ) প্রতিনিধিঃ নওগাঁর ধামইরহাটে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের তফশীলি জমি ভিপি সম্পত্তির শ্মশান থেকে ৮৫টি গাছ কেটে ভিক্ষু মেশিন দিয়ে পুরাতন ও নতুন কবরের মাটি খনন করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার খেলনা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড চকবেণী এলাকায়।
এ বিষয়ে প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়ে উপজেলার খেলনা ইউনিয়ন ৮ নম্বর ওয়ার্ড পশ্চিম চক ভবানী এলাকার গাবরিয়াল হেমরম এর ছেলে পরিমল হেমরম (৫১) বাদী হয়ে মৃত মজির উদ্দিনের ছেলে মোঃ আবুল হোসেন (৫৫) সহ ১৩ জন ব্যক্তির বিরুদ্ধে ১ আগষ্ট ধামইরহাট থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবর একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
ধামইরহাট থানার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার খেলনা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড চকবেণী মৌজায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সম্প্রদায়ের পূর্বপুরুষ সেখানে সিএস, এসএ ও আর এস  খতিয়ানে শ্মশান হিসেবে ৬৫ শতাংশ জমি ব্যাবহার করতেন। ওই জমিতে তাঁদের পুরনো ও নতুন ২শ ১২টি কবরের পাশাপাশি ৩০ বছর আগে রোপন করা ১০০টি আম গাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ ছিল। গত ১৫ ও ১৭ জুলাই ওই দুর্বৃত্তরা শ্মশানের উপর থেকে ৮৫টি আম গাছ ও একটি বড় পাইকর গাছসহ একটি তাল গাছ কেটে বিক্রি করলে তাঁদের ৪ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানান।
অন্যদিকে বাদীর নিষেধ উপেক্ষা করে
বিবাদীরা ওই শ্মশানের পুরাতন ও নতুন কবর ভিকো মেশিন দিয়ে খনন করায় স্থানীয়  ক্ষুদ্র নৃগোষ্টী সম্প্রদায়ের মাঝে চাপা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে ওই এলাকায় যে কোন মুহূর্তে আইনশৃঙ্খলা অবনতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এবিষয়ে মোঃ রহমত আলীর সাথে কথা হলে তিনি নিজের দোষ স্বীকার করে বলেন, সরকারি গাছ কাটা তাদের ঠিক হয়নি। গ্রামের লোকজন মিটিং করে তাঁর এক চাচা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ দেলদার হোসেনের পরামর্শ নিয়ে ২৫-৩০ জন মিলে গাছ গুলো কেটেছেন।
অপর বিবাদী আমজাদ হোসেন বলেন, গাছ কাটার আগের দিন গ্রামে একটি মিটিং হয়েছিল। অসুস্থ থাকার কারণে সেদিন তিঁনি মিটিংয়ে উপস্থিত থাকতে পারেননি। অথচ বাদী তাঁর বিরুদ্ধে থানায় মিথ্যে অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ধামইরহাট পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি বৈদ্যনাথ কর্মকার জানান, দুষ্কৃতকারীরা সরকারের অনুমতি না নিয়ে অন্যায় ভাবে গাছ কেটেই ক্ষান্ত হননি তাঁদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে শ্মশানে কবরের মাটি গুলো পর্যন্ত খনন করা হয়েছে। তিনি ক্ষোভের সাথে বলেন, প্রায় ১২ দিন আগে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলেও অজ্ঞাত কারণে এখন পর্যন্ত আসামীদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নিয়ে থানার ওসি দুই পক্ষকে নিয়ে মীমাংসা করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছেন।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ দেলদার হোসেন জানান, তিনি ছোটবেলা থেকেই জানতেন ওই জায়গাটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের। শ্মশানের গাছ কাটার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কাউকে গাছ কাটার কোন পরামর্শ দেননি বলে জানান।
সত্যতা নিশ্চিত করে ধামইরহাট থানার অফিসার ইনচার্জ মোজাম্মেল হক কাজী বলেন, শ্মশানের মালিক সরকার এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এসিল্যান্ড মহোদয়ের নিকট থেকে অপরাধীদের তালিকা পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ আরিফুল ইসলাম জানান, শ্মশানের বিষয়ে তিঁনি অবগত হয়েছেন এবং এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য থানার অফিসার ইনচার্জ কে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।