নেত্রকোণা প্রতিনিধি: মাকসুদা বয়স ৭,
অন্য শিশুদের মতন এইবয়সে গ্রামের ধুলাবালুতে সাথীদের সঙ্গে খেলা পুতুল খেলায় মেতে থাকার কথা। সেই বয়সেই মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে সেব।
মাত্র প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়েছে সে। বয়স তার ৭ বছর । এমন দুরন্তপনা শিশুটি আজ নিস্তেজ হয়ে যাচ্ছে।


গত ১৫দিন আগে কুড়িয়ে পাওয়া খেলার পুতুলের শাড়ি দিয়াশলাই দিয়ে সুঁতা পুড়ানোর সময় শরীরে থাকা জামায় লেগে গিয়ে অগ্নিদগ্ধ হয় সে। মূহুর্তের মধ্যেই পুড়ে যায় সমস্ত শরীর। শরীরের সমস্ত জায়াগায় পচন ধরেছে। খসে পড়ছে শরীরের মাংস। শরীরে পোকা ধরেছে। চিকিৎসা করার সামর্থ না থাকায় এভাবেই মরতে বসেছিল শিশুটি।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক মদন উপজেলার করোনার গ্রুপ থেকে বিষয়টি জানতে পায় মদন উপজেলা প্রশাসন। তাৎক্ষণিক মদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বুলবুল আহমেদ শিশুটির পাশে দাঁড়ালেন ও চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন বলে এমনটি জানিয়েছেন শিশুটির পরিবার।
বৃহস্পতিবার (১৮ মার্চ) সকাল ১০ টায় উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তির জন্য অগ্নিদগ্ধ মাকসুদাকে নেয়া হয়৷ বলে জানা যায়।
মদন পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের বাড়িভাদেরা গ্রামের দিন মজুর সিদ্দিক মিয়া ও জাফরিন আক্তারের তৃতীয় সন্তান মাকসুদা। মাকসুদা পৌরসভার বীর মুক্তিযোদ্ধা এ রহিম চৌধুরী অটিজম ও প্রতিবন্ধী স্কুলে প্রথম শ্রেণীর শিক্ষার্থী৷
মাকসুদার মা জাফরিন আক্তার বলেন, ‘আমার মেয়ে পুতুলের কাপড় আগুন দিয়ে পুড়তেছিল। এ সময় তার জামায় আগুন লেগে যায়। আমি তার সামনে থেকেও রক্ষা করতে পারলাম না। আগুনের পুড়া নিয়ে হাসপাতালে গিয়েছিলাম। ডাক্তার বলল ঢাকায় নিয়ে যাইতে। আমরা এমনেই খাইতে হারি না। ডাক্তার দেহাব কেমনে ? তাই ঘরেই রাখতেছিলাম। এহন তার শরীরে পচন ধরছে, গন্ধ বের হচ্ছে। মা হইয়া এসব আর দেখতে হারছিনা। মদনের ইউএনও স্যার আমার বাচ্চারে ঢাকা পাডাইতাছে।’
বাবা সিদ্দিক মিয়া বলেন, ‘আমি দিন মজুর দিনে আনি দিনে খাই। আমার মাইটারে কিভাবে ডাক্তার দেখাইব ? সরকার আর ধনী লোকরা যদি সহযোগিতা করে তাইলে আমার বাচ্ছাটা বাঁচানো যাইবে।’
মদন হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডাক্তার মোঃ সোহেল রানা সাংবাদিকদের জানান, ‘এমন সংবাদের প্রেক্ষিতে মদন ইউএনও মহোদয়ের সাথে শিশুটির বাড়িতে গিয়েছিলাম। শিশুটির যে অবস্থা তাকে দ্রুত শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড সার্জারি ইনস্টিটিউট বিভাগে ভর্তির জন্য বলা হয়েছে। সেখানে চিকিৎসা পেলে তাকে ভাল করা সম্ভব হবে।’ মদন
পৌর মেয়র সাইফুল ইসলাম সাইফ জানান, ‘আমি নিজে বার্ন অ্যান্ড সার্জারি ইনস্টিটিউট বিভাগে পরিচালকের সাথে কথা বলব। আমরা তার পাশে দাঁড়াব। সরকারি ও ব্যাক্তিগত যত সহযোগিতা প্রয়োজন হয় তাই করব।’
মদন উপজেলা নির্বাহী অফিসার বুলবুল আহমেদ বলেন, ‘গতকাল আমি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম করোনার একটি গ্রুপ এর মাধ্যমে মাকসুদার অগ্নিদগ্ধের বিষয়টি জানতে পেরেছি। তার চিকিৎসার জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে নগদ ৩০ হাজার টাকা দেয়া হয়েছে। তাকে শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড সার্জারি ইনস্টিটিউট বিভাগে ভর্তির জন্য আজ (১৮ মার্চ) বৃহস্পতিবার পাঠানো হচ্ছে। তার চিকিৎসার সকল খরচ মদন উপজেলা প্রশাসন বহন করবে।’
ফয়সাল চৌধুরী
১৮-০৩-২০২১ বৃহস্পতিবার