মিরসরাইয়ে যুবলীগ কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা
মিরসরাই প্রতিনিধি মিরসরাইয়ে শহিদুল ইসলাম আকাশ (২৮) নামে একজন যুবলীগ কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
সে উপজেলার ২ নং হিঙ্গুলী ইউনিয়ন যুবলীগ কর্মী। সোমবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে উপজেলার হিঙ্গুলী ইউনিয়নের চিনকিরহাট বাজারের শহিদুল ইসলাম আকাশের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নাজমা টিম্বার এন্ড ফার্ণিচার মার্টে হামলার ঘটনা ঘটে।
হামলার পর রাত ৯ টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় আকাশ। নিহত আকাশ হিঙ্গুলী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম ইসলামপুর গ্রামের মানত মিঝি বাড়ির নুরুল ইসলামের একমাত্র পুত্র।
দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে আকাশ সবার ছোট এবং আনিকা সুরাইয়া জান্নাত নামে ২ বছর বয়সী এক কন্যা সন্তানের জনক।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার সময় বারইয়ারহাট-করেরহাট সড়কের চিনকিরহাট বাজারে যুবলীগ কর্মী শহিদুল ইসলাম আকাশের মালিকানাধীন নাজমা টিম্বার এন্ড ফার্ণিচার মাটে বসে ব্যবসায়িক কাজ করছিলেন। এসময় স্থানীয় ইসলামপুর গ্রামের সন্ত্রাসী হুমায়ুন কবির মামুনের নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ৮-১০ জন হামলা চালায় আকাশের উপর।
হামলায় গুরুতর আহত অবস্থায় আকাশকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মস্তাননগর হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তার অবস্থার অবণতি ঘটলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করালে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় আকাশ।
শহিদুল ইসলাম আকাশের পিতা নুরুল ইসলাম বলেন, ‘মামুন ও মোতালেবের নেতৃত্বে তার একমাত্র ছেলে আকাশকে কুপিয়েছে। মামুন সন্ত্রাসী প্রকৃতির। সে অনেক সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সাথে জড়িত। আমি আমার ছেলে খুনের যথোপযুক্ত বিচার চাই।’
হিঙ্গুলী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি কামরুল ইসলাম জানান, শহিদুল ইসলাম আকাশ রাজনৈতিক কোন পদ পদবীতে না থাকলেও ইতিপূর্বে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। তিনি হিঙ্গুলী ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক পদ প্রত্যাশী ছিলেন। ২০১৮ সালেও তাঁর ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছিলো। এবার তাঁকে (আকাশ) ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন করা হয়েছে।
জোরারগঞ্জ থানার দায়িত্বরত কর্মকর্তা সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আবদুল বাতেন জানান, ‘স্থানীয় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে যুবলীগ কর্মী আকাশ’কে কুপিয়েছে। চমেক হাসপাতালে নেওয়ার পর সেখানে সে মারা যান। ঘটনাস্থলে পুলিশের দুইটি টিম কাজ করছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো থানায় লিখিত কোন অভিযোগ আসেনি।’